মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

ভিন গ্রহের প্রাণির সন্ধানে অভিযাত্রায় হকিং

Reporter Name / ২০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ধারণাতীত বিশাল এই মহাবিশ্বে মানুষই কি একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী- বহু দিনের সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন এক এলাহী আয়োজনে সহযাত্রী হয়েছেন স্টিফেন হকিং। রুশ এক ধনকুবের অর্থায়নে ১০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে নিজেকে যুক্ত করে এই বিজ্ঞানী বলেছেন, “বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে আমরা অস্তিত্বশীল, আমাদের তা জানতেই হবে।” কল্পনার ভিন গ্রহের প্রাণী কি বাস্তবেও আছে- সেই কৌতূহলের অবসান ঘটাতে মানুষ এই পর্যন্ত যত অনুসন্ধান চালিয়েছে; বলা হচ্ছে, তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড়। সোমবার লন্ডন রয়্যাল সোসাইটিতে হকিংয়ের ‘ব্রেকথ্রু ইনিশিয়েটিভ’র এই উদ্যোগ উদ্বোধনের খবর এসেছে বিবিসি, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সব ক’টি সংবাদ মাধ্যমে।
পৃথিবী থেকে বেতার তরঙ্গ পাঠিয়ে তার কোনো প্রত্যুত্তর আসে কি না, তার পরীক্ষা চলছে অনেক দিন ধরে। অপেক্ষা চলছে প্রত্যুত্তরের। যদি আসে, তা হলে বোঝা যাবে, মানুষ একা নয়, বুদ্ধিমান প্রাণী আরও আছে, যদিও তা হতে পারে অনেক আলোকবর্ষ দূরে। এই প্রকল্পে যুক্তদের উদ্ধৃত করে বিবিসি বলছে, নতুন পরিকল্পনায়ও বেতার তরঙ্গই পাঠানো হবে, তবে মহাকাশে ১০ বছর ধরে আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি পরিসর ছাড়িয়ে যাবে এই তরঙ্গ, যা পৌঁছাবে পৃথিবীর কাছের অন্তত ১০০টি ছায়াপথের ১০ লাখের মতো নক্ষত্রে। আর তা স্ক্যান হবে আগের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি, ১০০ গুণ দ্রুত।

এই প্রকল্পে যোগ করা হয়েছে বিশ্বের সবেচেয়ে শক্তিশালী দুটি টেলিস্কোপ, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রিন ব্যাংক টেলিস্কোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে থাকা পার্কেস টেলিস্কোপ। এই অনুসন্ধানে যুক্ত যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রোনমার রয়্যাল লর্ড মার্টিন রিস বলেন, “একবিংশ শতকের বিজ্ঞানে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিযান হচ্ছে ভিন গ্রহের প্রাণীর অনুসন্ধান।” ‘ব্রেকথ্রু ইনিশিয়েটিভ’র মূল উদ্যোক্তা ইয়ুরি মিলনারের কণ্ঠেও আশার সুর- প্রযুক্তি এখন এতটাই এগিয়েছে যে ভিন গ্রহের প্রাণীরা যদি কোনো সঙ্কেত পাঠায়, তা ধরা সম্ভব। “আমরা কি একা- বর্তমান প্রযুক্তি মানুষের এই সময়ের সবচেয়ে বড় এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।”

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা তথ্য প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা মিলনারের মহাকাশ নিয়ে আগ্রহের শুরুটা কার্ল সেগানের ‘ইন্টিলিজেন্ট লাইফ ইন দি ইউনিভার্স’ বইটি পড়ে। তখন তিনি মাত্র ১০ বছরের এক রুশ বালক। ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে আগ্রহের বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মহাকাশে আরও বুদ্ধিমান প্রাণী থাকলে তাদের মাধ্যমে ঋদ্ধ হতে পারবে পৃথিবীবাসী। পৃথিবীর সম্পদ আরও টেকসইভাবে কাজে লাগানো যায়, তা জানা যাবে।

আর যদি নিশ্চিত হওয়া যায়, তাতেও লাভ দেখছেন মিলনার। তার মতে, তখন বোঝা যাবে এই পৃথিবীর কোনো বিকল্প নেই। মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রশ্নের উপসংহার টানতে চাইছেন তিনি। আর তার এই প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়ে হকিং বলছেন, “এখন প্রশ্ন নয়, এখন উত্তর খোঁজার পালা- পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণ আছে কি না।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর